প্রচ্ছদ / ইসলাম / ওমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণ
home-ad-620-x-90

ওমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণ

অনলাইন ডেস্ক :আরব ভূমিতে যখন নবুয়তের সূর্য উদিত হয়েছিল, এর বিরুদ্ধে মক্কার কাফের মুশরিক গোষ্ঠীর বিরোধিতার সূচনাটাও ছিল ঠিক তখন থেকেই। অল্প দিনের মধ্যেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সে বিরোধিতা ঘোরতর সম্মিলিত বিরোধিতার রূপ নিল। যেখানে সেখানে নবী মুহাম্মদ ও তার মতের অনুসারীদের বিরুদ্ধে মিছিল-মিটিং চলে। তৈরি হতে থাকে ইসলাম ও মুসলিম নিধনের নীলনকশা। কোনো নওমুসলিমকে বাগে পেলে তাকে ধর্মত্যাগের দায়ে যথেচ্ছ শাস্তি দিতে কোনো ত্রুটি করা হতো না। এহেন নাজুক পরিস্থিতি দেখে নবী (সা.) নওমুসলিমদের দ্বীনি তালিম তরবিয়াতের জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিলেন জায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) এর ঘর। তখনও প্রকাশ্যে দ্বীন প্রচারের অনুমোদন আসেনি। গোপনে বিশেষ পদ্ধতির দাওয়াতে যারা ইসলাম গ্রহণ করতেন তারা আশ্রয় নিতেন জায়েদ (রা.) এর গৃহে। এভাবে বড় একটি অংশ সেখানে একত্রিত হয়ে যায়। সেখানে অবস্থানকালে ইসলাম ও মুসলমানদের সাহায্যার্থে নবীজি (সা.) দোয়া করলেন‘হে আল্লাহ! আপনি আবুল হাকাম অথবা খাত্তাবের বেটাকে ইসলামের জন্য কবুল করুন।’

এদিকে সেদিনও কাবা চত্বরে ইসলামের নবী মুহাম্মদ ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সভা চলছিল। যাতে আবুল হাকাম (আবু জাহেল) ঘোষণা দিয়েছিলÑ ‘যে ব্যক্তি মুহাম্মদের মস্তক এনে দিতে পারবে, তাকে ১০০ উট পুরস্কার দেওয়া হবে।’ সবাই জানত খাত্তাবের বেটা ওমর ব্যতীত এ সাহস আর কেউ রাখে না। সহসাই সবার ধারণা বাস্তবে রূপ দিয়ে ওমর মজলিস থেকে ওঠে গেল। চোখে রক্ত পিপাসা, কাঁধে উন্মুক্ত তরবারি। গন্তব্য দারুল আরকাম। পথিমধ্যে দেখা হলো বন্ধু নুআইম (রা.) এর সঙ্গে। তার ইসলাম গ্রহণের সংবাদ তখনও গোপন ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আরে ওমর উন্মুক্ত তরবারি নিয়ে কোথায় যাচ্ছ? দৃঢ় কণ্ঠে ওমরের উত্তরÑ ‘আজ মুহাম্মদের একটা বিহিত করেই ছাড়ব।’ ওমরকে ঠেকাতে হজরত নুআইম (রা.) একটি কৌশল করলেন। তাকে বললেনÑ ‘আরে! আগে নিজের ঘরের তো খবর নাও।’ ওমর কৌতূহলি হয়ে জানতে চান ঘটনা কী? তিনি বলেন, ‘তোমার বোন ও তার স্বামী দুজনই মুসলমান হয়ে গেছে।’ শোনা মাত্রই রাগে হুঙ্কার দিয়ে দিক পরিবর্তন করলেন ওমর। বোনের বাড়ি পৌঁছতে খুব বেশি দেরি হলো না । দরজায় করাঘাত হলো সজোরে। ঘটনাক্রমে সে সময়ে খাব্বাব (রা.) ঘরের ভেতরে ছিলেন। তিনি ওমর এর বোন ফাতেমা ও সাঈদকে কোরআন পড়াচ্ছিলেন। ওমরের আওয়াজ শুনে তিনি ঘরের কোথাও লুকিয়ে গেলেন। ভেতরে প্রবেশ করেই রাগত স্বরে ওমরের জিজ্ঞাসা ‘আমি বাইরে থেকে কী শুনছিলাম? তোমরা কী পড়ছিলে? ভগ্নিপতি সাঈদ ইবনে যায়দ কথা বলার জন্য এগুলে ওমর তাকে বেদম প্রহার করতে শুরু করলেন। বোন ফাতেমা বিনতে খাত্তাব তাদের থামানোর জন্য অগ্রসর হলেন। এতে ওমরের ক্রোধ আরও বেড়ে গেল। ফাতেমা (রা.) কে তিনি এমন চপেটাঘাত করলেন তিনি রক্তাক্ত হয়ে গেলেন। ওমর রাগি ছিলেন বটে, ছিলেন সুবোধ সম্পন্নও। বোনকে আহত করে তিনি খুব ব্যথিত হলেন। বেশ কিছুক্ষণ নীরব থেকে অনুতপ্ত স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কী পড়ছিলে?’ ফাতেমা বললেন, আমরা আল্লাহ তায়ালার পবিত্র কালাম কোরআন পড়ছিলাম। ওমর দেখতে চাইলে তাকে বলা হলোÑ ‘এ শুধু পবিত্ররাই পাঠ করতে পারে।’ তাকে গোসল করতে বলা হলো। ওমর গোসল করে এলেন। বোন ফাতেমা তাঁকে কোরআনের সূরা ত্বহা লেখা অংশটি দিলেন। ওমর পড়তে লাগলেনÑ ‘ত্বহা, আপনাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আমি আপনার প্রতি কোরআন অবতীর্ণ করিনি। কিন্তু তাদেরই উপদেশের জন্য, যারা ভয় করে। এটা তার কাছ থেকে অবতীর্ণ।’ (ত্বহা : ১-৪)।

এ সময় কী এক অদৃশ্য সম্মোহনি শক্তি তাকে আবিষ্ট করতে লাগল। তার বিবেক তাকে ধিক্কার দিতে লাগল। কেন তুমি এতদিন কোরআনের স্পর্শ থেকে দূরে ছিলে? এতদিন কেন কোরআনের ছায়াতলে আসনি? দৃশ্যপটের পরিবর্তন দেখে খাব্বাব (রা.) বেরিয়ে এলেন। বললেন, ওমর তোমার ও আবুল হাকাম এর ব্যাপারে নবী কারিম (সা.) হেদায়েতের দোয়া করেছেন। বলেছেনÑ ‘হে আল্লাহ! আপনি দুই ওমরের মাঝ থেকে কোনো একজনের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।’

ওমরের হৃদয় আরও কোমল হতে লাগল। আবেগ তাড়িত হয়ে পড়লেন তিনি। কালক্ষেপণ না করে ছুটলেন আকরাম (রা.) এর ঘরের দিকে। নবী কারিম (সা.) এর কাছে। সঙ্গে খাব্বাব (রা.) ও ভগ্নিপতি সাইদ ইবনে যুবায়ের। আকরাম (রা.) এর ঘরে প্রবেশ করেই নবী (সা.) এর সাক্ষাৎ। যেন তিনি ওমরের অপেক্ষায়ই ছিলেন। ওমরের জামার আঁচল ধরে বললেনÑ ‘এত দেরি করলে কেন ওমর? ওমর কাঁদতে কাঁদতে কালেমা পড়লেন। উপস্থিত সবাই সুউচ্চ তাকবির ধ্বনি দিলেন। সেই ধ্বনিতে গুঞ্জরিত হলো মক্কার প্রতিটি অলি-গলি। ওমর অন্তর্ভুক্ত হলেন ‘রাদিয়াল্লাহু আনহু’ এর জামাতে।

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*