প্রচ্ছদ / ইসলাম / পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারে কুরআনের আদেশ
home-ad-620-x-90

পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারে কুরআনের আদেশ

অনলাইন ডেস্ক :পিতামাতার অধিকারের বিষয়টি অনেক বড় ও মহান এবং দ্বীনের মধ্যে তাদের মর্যাদা ও অবস্থান অনেক উপরে। সুতরাং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করার বিষয়টি তাওহীদ তথা আল্লাহর একত্ববাদের মতই গুরত্বপূর্ণ। আর তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার বিষয়টি আল্লাহ তা’আলার প্রতি কৃতজ্ঞতার সাথে সম্পৃক্ত। তাদের প্রতি ইহসান করা সবচেয়ে মহান কাজের অন্তর্ভুক্ত এবং মহান আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল।

আল্লাহ তা’আলা বলেন:

﴿ وَٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَلَا تُشۡرِكُواْ بِهِۦ شَيۡ‍ٔٗاۖ وَبِٱلۡوَٰلِدَيۡنِ إِحۡسَٰنٗا ﴾

“আর তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং কোনো কিছুকে তাঁর শরীক করো না; আর পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করো।” (সূরা নিসা-৩২)

আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন:

﴿قُلۡ تَعَالَوۡاْ أَتۡلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمۡ عَلَيۡكُمۡۖ أَلَّا تُشۡرِكُواْ بِهِۦ شَيۡ‍ٔٗاۖ وَبِٱلۡوَٰلِدَيۡنِ إِحۡسَٰنٗاۖ ﴾ [الانعام: ١٥١]

“বলুন, ‘এসো তোমাদের রব তোমাদের উপর যা হারাম করেছেন তোমাদেরকে তা তিলাওয়াত করি, তা হচ্ছে, তোমরা তাঁর সাথে কোনো শরীক করবে না, পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে।” (সূরা আনআম-১৫১)

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলা আরও বলেন:

﴿وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعۡبُدُوٓاْ إِلَّآ إِيَّاهُ وَبِٱلۡوَٰلِدَيۡنِ إِحۡسَٰنًاۚ إِمَّا يَبۡلُغَنَّ عِندَكَ ٱلۡكِبَرَ أَحَدُهُمَآ أَوۡ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَآ أُفّٖ وَلَا تَنۡهَرۡهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوۡلٗا كَرِيمٗا ٢٣ وَٱخۡفِضۡ لَهُمَا جَنَاحَ ٱلذُّلِّ مِنَ ٱلرَّحۡمَةِ وَقُل رَّبِّ ٱرۡحَمۡهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرٗا ٢٤ ﴾

“আর তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারও ‘ইবাদত না করতে এবং পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে ‘উফ্’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; আর তাদের সাথে সম্মানসূচক কথা বলো। আর মমতাবেশে তাদের প্রতি নম্রতার পক্ষপুট অবনমিত করো এবং বলো, হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া কর, যেভাবে তারা শৈশবে আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।” (সূরা ইসরা: ২৩-২৪)

আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন:

﴿ وَوَصَّيۡنَا ٱلۡإِنسَٰنَ بِوَٰلِدَيۡهِ حَمَلَتۡهُ أُمُّهُۥ وَهۡنًا عَلَىٰ وَهۡنٖ وَفِصَٰلُهُۥ فِي عَامَيۡنِ أَنِ ٱشۡكُرۡ لِي وَلِوَٰلِدَيۡكَ إِلَيَّ ٱلۡمَصِيرُ ١٤ ﴾

“আর আমরা মানুষকে তার পিতামাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করে, আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দু’বছরে। কাজেই আমার প্রতি ও তোমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। ফিরে আসা তো আমারই কাছে।” (সূরা লুকমান-১৪)

তাছাড়া এ প্রসঙ্গে বহু হাদিসও বর্ণিত আছে; তন্মধ্যে অন্যতম একটি হাদিস, আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ’আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إلَى اللَّهِ ؟ قَالَ : «الصَّلاةُ عَلَى وَقْتِهَا » . قُلْتُ : ثُمَّ أَيُّ ؟ قَالَ : « بِرُّ الْوَالِدَيْنِ » , قُلْتُ : ثُمَّ أَيُّ ؟ قَالَ : « الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ.  “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম: আল্লাহ তা’আলার নিকট কোন আমল সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয়? জবাবে তিনি বললেন, সময়মতো সালাত আদায় করা। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন, পিতা-মাতার সাথে উত্তম ব্যবহার করা। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।” (বুখারি, মুসলিম)

বস্তুত পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার বিষয়টি এমন একটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা সুস্থস্বভাব ও বিশুদ্ধ প্রকৃতি কর্তৃক স্বীকৃত, যার ব্যাপারে আসমানী শরী’য়ত একাট্টা; আর তা হল নবীদের চরিত্র এবং সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণের স্বভাব। যেমনিভাবে তা ঈমানের সত্যতা, ব্যক্তির মহত্ব ও সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালনের উপর উৎকৃষ্ট দলীল ও প্রমাণ।

আর পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার বিষয়টি ইসলামী শরী’য়তের মহান সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত; এটা হল অনুগ্রহের স্বীকৃতি, মর্যাদা সংরক্ষণ, শরী’য়তের পরিপূর্ণতার উপর প্রমাণ এবং তা অন্তর্ভুক্ত করে সকল প্রকার অধিকারকে।

এটা বস্তুবাদী পৃথিবীর মানব রচিত আইনকানুন তার বিপরীত, যা পিতামাতার জন্য কোনো বিশেষ মর্যাদা নির্ধারণ করেনি এবং তাদের জন্য কোনো অধিকার সংরক্ষণ করেনি; বরং তা তাদেরকে অবজ্ঞা করেছে এবং হেয় প্রতিপন্ন করেছে।

আর প্রযুক্তিতে অগ্রগামী পশ্চিমা বিশ্বই হলো এর জ্বলন্ত সাক্ষী। কারণ, ওই ব্যবস্থায় মা হলেন এমন এক যন্ত্রের মত, যখন তার কার্যকারিতার সময়কাল শেষ হয়ে যায়, তখন তাকে মাটিতে ছুড়ে ফেলা হয়।

আর তাদের চিন্তা-চেতনা থেকে পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের অতি সীমিত এক পন্থার উদ্ভব হয়েছে যে, তারা একটি বার্ষিক দিবস চালু করেছে, যার নাম দিয়েছে ‘মা দিবস’। সে দিন ছেলে ও মেয়েরা ভালবাসা ও সদ্ব্যবহারের প্রতীক হিসেবে তাদের মাকে একগুচ্ছ গোলাপ ফুল উপহার হিসেবে প্রদান করে।

এটা হলো তাদের পক্ষ থেকে পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করার চূড়ান্ত নমুনা; বছরে একদিন, অন্য কোনো দিন নয়! তাহলে সেবা-যত্ন কোথায়? অথবা সহানুভূতি কোথায়? আর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি বা কোথায়? এসব মার্জিত মর্যাদাপূর্ণ অর্থবোধক শব্দের কোনো জ্ঞান তাদের নেই এবং তাদের নিকট এর কোনো অংশের বাস্তবতা নেই।

অপরদিকে ইসলামে মাতাপিতার অধিকারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং এটাই শুধু নয়, বরং ইসলাম পিতামাতার অবাধ্য হতে নিষেধ করেছে এবং তার ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে। কারণ, তা কবীরাগুনাহসমূহের মধ্যে অন্যতম এবং শিরকের সমমানের অপরাধ। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলার বাণীই যথেষ্ট, তিনি বলেন- ﴿ فَلَا تَقُل لَّهُمَآ أُفّٖ وَلَا تَنۡهَرۡهُمَا ﴾ “তাদেরকে ‘উফ্’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না।” (সূরা ইসরা-২৩)

আর এ প্রসঙ্গে অনেক হাদিস বর্ণিত আছে; তন্মধ্যে অন্যতম একটি হাদিস, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- الكبائرُ : الإشراكُ بالله ، وعُقوقُ الوالدين ، وقتْلُ النفس ، واليمينُ الغموسُ

“অন্যতম কবীরা গুনাহসমূহ হল: আল্লাহ তা’আলার সাথে শরীক করা, পিতামাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম করা।” (বুখারী)

পিতামাতার জন্য এই মর্যাদা, বিশেষ করে তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার ব্যাপারে জোরালো নির্দেশ এবং তাদের অবাধ্য হতে নিষেধ করে পবিত্র কুরআনে আল্লাহর কঠোর ধমকি আসা সত্ত্বেও একদল মানুষ তাদের প্রতি প্রেরিত উপদেশের একটা বিরাট অংশকে ভুলে গেছে; ফলে তারা পিতামাতার অধিকার রক্ষায় যত্নশীল হয় না এবং তাদের অবাধ্য হওয়ার বিষয়টিকে পরোয়া করে না। আল্লাহ আমাদের এমন পদস্খলন থেকে হিফাজত করুন। আমিন।

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*