প্রচ্ছদ / আর্ন্তজাতিক / চীন ১০ লাখ উইগুর মুসলিমকে আটকে রেখেছে: জাতিসংঘে অভিযোগ
home-ad-620-x-90

চীন ১০ লাখ উইগুর মুসলিমকে আটকে রেখেছে: জাতিসংঘে অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটি জেনেভাতে চীনের ওপর দুদিনের যে বিশেষ সভা করছে, সেখানে অভিযোগ করা হয়, কট্টরপন্থী সন্দেহে ১০ লাখ চীনা উইগুর মুসলিমকে বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে আটকে রাখা হয়েছে।

অভিযোগ করেন জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিষয়ক কমিটির সদস্য গে ম্যাকডুগাল।

তিনি বলেন, এমন খবর তিনি পেয়েছেন যে চীনা কর্তৃপক্ষ স্বায়ত্তশাসিত উইগুর প্রদেশকে কার্যত ‘‘বিশাল একটি বন্দীশিবিরে’’ রূপান্তরিত করেছে।

চীন সাথে সাথে এর কোনো জবাব দেয়নি। ৫০-সদস্যের চীনা প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, সোমবার এই অভিযোগের জবাব দেওয়া হবে।

তবে এর আগে বিভিন্ন সময় চীন বলেছে, এ ধরণের বন্দী শিবিরের কোনো অস্তিত্ব নেই।

উইগুর মুসলিম কারা?
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ উইগুর মুসলিম। এই প্রদেশটি তিব্বতের মত স্বশাসিত একটি অঞ্চল। বিদেশী মিডিয়ার ওপর এখানে যাবার ব্যাপারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।

কিন্তু গত বেশ ক’মাস ধরে বিভিন্ন সূত্রে খবরাখবর বেরুচ্ছে যে শিনজিয়াং-এ উইগুর এবং অন্যান্য মুসলিমরা ব্যাপকহারে আটকের শিকার হচ্ছে।

ঠিক কি জন্য চীনকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে?
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির কাছে দেওয়া তাদের রিপোর্টে বলেছে, উইগুর মুসলিমদের গণহারে ধরে বিভিন্ন বন্দীশিবিরে নেয়া হচ্ছে।

এরপর সেসব শিবিরে তাদেরকে জোর করে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশে বাধ্য করা হচ্ছে।

নির্বাসিত উইগুর মুসলিমদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইগুর কংগ্রেস তাদের এক রিপোর্টে বলেছে, কোনো অভিযোগ ছাড়াই উইগুরদের ধরে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা হচ্ছে, এবং তাদেরকে জোর করে চীনা কম্যুনিস্ট পার্টির পক্ষে স্লোগান দিতে বলা হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড উইগুর কংগ্রেস দাবি করছে, বন্দীদের ঠিকমত খাবার দেওয়া হয়না এবং নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। বলা হচ্ছে, অধিকাংশ বন্দীকে দীর্ঘদিন আটকে রাখলেও তাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়না এবং কোনো আইনি সহায়তা নিতেও দেওয়া হয়না।

ধর্মীয় কট্টরবাদ মোকাবেলার যুক্তিতে চীনা কর্তৃপক্ষ এভাবে গণ-আটকের পথ নিয়েছে।

চীন কি বলে?
চীনের সরকার সবসময় বলে এ ধরনের কোনো বন্দীশিবিরের কোনো অস্তিত্বই সেখানে নেই।

এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনিয়র কূটনীতিক ল্যরা স্টোন বলেছিলেন, ‘‘পুনঃ-শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে’’ লাখ লাখ মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তখন বলেছিলেন, ‘‘সবাই জানে এবং দেখে যে শিনজিয়াংয়ে সব জাতিগোষ্ঠী শান্তি এবং সমৃদ্ধির মাঝে পাশাপাশি বসবাস করছে।’’

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চীনা মুসলিম সমাজে মধ্যপ্রাচ্যের ঘরানার ইসলামী ভাবধারা ঢুকে পড়ছে বলে বেইজিংয়ের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উদ্বেগ শুরু হয়েছে।

শুক্রবার উত্তর-পশ্চিমের নিংশিয়া প্রদেশের উইজু শহরে কর্তৃপক্ষ একটি ‘‘অননুমোদিত’’ মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার উদ্যোগ নিলে এলাকার শত শত মুসলিম তাতে বাধা দেয়।

চীনা মুসলিমরা শত শত বছর ধরে মসজিদ বা অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের সময় চীনের ঐতিহ্যবাহী নকশা এবং স্থাপত্য অনুসরণ করে আসছে।

কিন্তু উইজুতে যে মসজিদ নিয়ে গণ্ডগোল বেঁধেছে সেটিতে মধ্যপ্রাচ্যের মত মিনার এবং গম্বুজ তৈরি করা হয়।

কর্তৃপক্ষ বলছে এই নকশার কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সূত্র: বিবিসি

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*