প্রচ্ছদ / আর্ন্তজাতিক / হিন্দুরা ছাগলের মাংস খাওয়া বন্ধ করুন: বিজেপি নেতা
home-ad-620-x-90

হিন্দুরা ছাগলের মাংস খাওয়া বন্ধ করুন: বিজেপি নেতা

অনলাইন ডেস্ক:ভারতে গোরক্ষার পর এবার ছাগল-রক্ষা। গো-মাতার পর ছাগ-মাতা। হিন্দুরা ছাগলের মাংস খাওয়া বন্ধ করুন। এমনই টুইট করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করলেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসু। বিতর্ক ঠেকাতে আবার আসরে নামলেন প্রাক্তন বিজেপি নেতা তথাগত রায়। তার পাল্টা টুইট, ‘ছাগল নয়, গরুই আমাদের মাতা।’

আর এই নিয়ে একই রাজনৈতিক ভাবধারায় বিশ্বাসী দুজনের মধ্যে রীতিমতো নাতিদীর্ঘ টুইটযুদ্ধ।

টুইটারিয়ানদের মত, হাস্যকর এক অধ্যায়ের জন্ম দিলেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল আর পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সহসভাপতি।

অলওয়ারে রাখবর খান হত্যার পর ফের গোরক্ষা বিতর্ক সামনে চলে এসেছিল। সেই সূত্র ধরেই গত ২৬ জুলাই একটি টুইট করেন চন্দ্র কুমার বসু। তিনি নিজে বিজেপি নেতা। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে বিজেপির প্রার্থী হয়েও ভোটে লড়েছেন। এমনকি আগামী বছরের লোকসভা ভোটেও তাকে প্রার্থী করার কথা ভাবছে বিজেপি। এ হেন চন্দ্রবাবু গো-রক্ষার নামে গণপিটুনির সমালোচনা করতে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, ‘কলকাতার ১ উডবার্ন পার্ক রোডে আমার প্রপিতামহ শরৎ চন্দ্র বসুর বাড়িতে গান্ধীজী মাঝেমধ্যেই আসতেন। তিনি ছাগলের দুধ খেতে চাইতেন। সেই কারণেই দ’টি ছাগল কেনা হয়েছিল। দুধ খেতেন বলে হিন্দুদের রক্ষাকর্তা গান্ধীজী ছাগলকে মাতা রূপে দেখতেন। হিন্দুরা ছাগলের মাংস খাওয়া বন্ধ করুন।’

কিন্তু এতদিন তো ছিল ‘গো-মাতা’। ছাগ-মাতা আবার কোথা থেকে উদয় হলো? কেনই বা হবে? কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাক্যবাণ নিয়ে ‘যুদ্ধং দেহি’ মেজাজে ময়দানে নেমে পড়লেন প্রাক্তন বিজেপি নেতা বর্তমানে ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায়।

তিনি পাল্টা লিখলেন, ‘না গান্ধীজী, না আপনার প্রপিতামহ, কেউই ছাগলকে ‘মাতা’ বলেননি। ওটা আপনার ব্যাখ্যা। তিনি যে হিন্দুত্বের রক্ষাকর্তা, গান্ধীজী নিজেও সেটা কখনও বলেননি। আমরা হিন্দুরা গরুকেই মাতা বিবেচনা করি, ছাগলকে নয়। দয়া করে এই ধরনের মতবাদ ছড়াবেন না।’

সেই সূত্রপাত। তারপর থেকেই টুইটের রণভূমিতে বসু-রায়ের মহাকাব্যিক বাক্যযুদ্ধ।

চন্দ্র বসু বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, ‘এটা ব্যক্তিগত মত। বিজেপি শাসিত রাজ্যে গরুকেন্দ্রিক রাজনীতি এবং গোরক্ষায় গণপিটুনির ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। এটা উদ্বেগের এবং বিরক্তিকর। গান্ধীজী আমাদের বাড়িতে থাকার সময় বারবার ছাগলের দুধ খেতে চাইছেন। সুতরাং এটা ধরেই নেয়া যায়, তিনি ছাগলকে ‘মাতা’ হিসেবেই মনে করতেন। বলার প্রয়োজন পড়ে না।’

‘তাতে কী হলো? এতেই কি প্রমাণ হয়, ছাগল ‘মাতা’? প্রশ্নবাণ ছুড়ে তথাগত রায়ের পাল্টা জবাব ‘গান্ধীজীর প্রিয় শিষ্য জওহরলাল নেহরু নিজে এবং তার সমাজ কাশ্মিরি পণ্ডিতরা মাংস খেতেন।’

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*