প্রচ্ছদ / লীড নিউজ / কেরানীগঞ্জে তথ্য গোপন করে হেবা দলিল, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি
home-ad-620-x-90
মজিবুর রহমান (বামে) ও নিজাম উদ্দিন (ডানে

কেরানীগঞ্জে তথ্য গোপন করে হেবা দলিল, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি : ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুরে তথ্য গোপন করে হেবা দলিল রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে সরকারের প্রায় ১৮লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে দলিল লেখক নিজাম উদ্দিন ও তার ভগ্নিপতি মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে।

তবে মজিবুর রহমান তথ্য গোপনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ভুল করে হয়ে গেছে’।

এদিকে তথ্য গোপন করে প্রতারনাকারীদের বিরুদ্ধে জেলা রেজিষ্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ঠ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

তথ্য প্রমানাদি দেখে ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানাগেছে, হযরতপুর ইউনিয়নের চর আলগী মৌজার সিএস ৭০নং, এসএ ১২৫নং, আরএস ৩৫৪নং খতিয়ানে এসএ ৩০৫৪নং, আরএস ২৫১০নং দাগের নাল জমির ৭০ শতাংশ আফসার উদ্দিনকে ডিক্লারেশন অব হেবা করে দেন বড় ভাই আমির আলী।

কিন্তু আফসার উদ্দিন ও আমির আলীর বাবার নাম মরহুম আমজাদ আলী হলেও মাতার নাম ভিন্ন।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আফসার উদ্দিনের মাতার নাম মরহুমা সালেহা বিবি ও আমির আলীর মাতার নাম মরহুমা কালিমা বিবি। এ থেকে বুঝা যায় তারা সৎ ভাই।

কিন্তু চতুর আমির আলী জাতীয় পরিচয় পত্রে গর্ভধারিনী মা মরহুমা কালিমা বিবির নাম গোপন করে সৎ মা মরহুমা সালেহা বিবি উল্লেখ করে প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছেন।

রেজিষ্ট্রেশন (সংশোধন) আইন ২০০৪ এর মুসলিম পারসোনাল ল’ (শরীয়ত) অনুসানে স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তান, দাদা-দাদী ও নাতি-নাতনী, সহোদর ভাই-ভাই, সহোদর বোন-বোন এবং সহোদর ভাই ও সহোদর বোনের মধ্যে হেবা বা দান করা যাবে। কিন্তু সৎ ভাইয়ের মধ্যে হেবা করার কোন নিয়ম নেই।

জানাগেছে, কেরানীগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রার অফিসের দলিল লেখক নিজাম উদ্দিন ও তার ভগ্নিপতি মজিবুর রহমান যোগসাযোস করে সরকারের মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার জন্য দেড় কোটি টাকা মূল্য ধরে মাতার নাম মরহুমা সালেহা বিবি ঠিক রেখে ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর একটি ভুয়া (দলিল নং-১১১৫৫) ডিক্লারেশন অব হেবা দলিল সম্পন্ন করেন।

কেরানীগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রার অফিসে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আমির আলীর ২০১৩ সালের ৪ডিসেম্বর করা অন্য একটি দলিলে তার মায়ের নাম মরহুমা কালিমা বিবি লেখা রয়েছে। এথেকে অরো প্রমানিত হয় সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার জন্য দলিল লেখক নিজাম উদ্দিন ও তার ভগ্নিপতি মজিবুর রহমানের যোগসাযোসে ভূয়া হেবা দলিল করে প্রতারনা করে সরকারের প্রায় ১৮ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।

এবিষয়ে মজিবুর রহমান নিজেদের ভুল স্বীকার করে বলেন, ‘ভুল করে হয়ে গেছে’। না বুঝে একাজ করে ফেলেছি। এখন সংশোধন করা হবে।

তবে সুদের ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে এধরনের ঘটনার আরও একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সিংগাইরের চরচামটা মৌজায় ৫বিঘার একটি জমি বিক্রিতেও তিনি প্রতারনা করেছেন। জাল কাগজপত্র তৈরী করে জমিটি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এপ্রসঙ্গে জানতে দলিল লেখক নিজাম উদ্দিনের মুঠফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে জেলা সাবরেজিষ্ট্রারের একটি সূত্র জানায়, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে শীঘ্রই প্রতারনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*