প্রচ্ছদ / স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা / বিল আদায়ে রোগিকে জিম্মি রাখা যাবে না
home-ad-620-x-90

বিল আদায়ে রোগিকে জিম্মি রাখা যাবে না

খবর ডেস্ক : রোগিকে জিম্মি রেখে অনাদায়ী বিল আদায় করতে পারবে না হাসপাতাল। এক রায়ে এ কথা বলেছে দিল্লি হাইকোর্ট।

মধ্য প্রদেশের এক পুলিশ সদস্য ফেব্রুয়ারিতে মধ্য দিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার বিল পরিশোধ না করায় তাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জিম্মি করে। এ বিষয়ে তার ছেলে আদালতের দ্বারস্থ হন। তারই রায়ে হাইকোর্ট ওই কথা বলেছে। এ খবর দিয়েছে ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই।

এতে বলা হয়, দিল্লি শহরের একটি প্রথম শ্রেণির বেসরকারি হাসপাতাল স্যার গঙ্গারাম হাসপাতাল। সেখানেই ঘটেছিল ওই ঘটনা। মধ্য প্রদেশের ওই রোগিকে সেখানে ভর্তি করানোর পর বিল শোধ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। ওই রোগি ছিলেন সাবেক একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি ফিস্টুলা রোগে ভুগছিলেন। এ রোগের চিকিৎসায় সার্জারি বা অপারেশন প্রয়োজন হয়।

ওই রোগির ছেলে তার অভিযোগে বলেছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ জন্য তার কাছে অস্বাভাবিক বিল হাঁকিয়েছে। এর পরিমাণ ১৩ লাখ ৪৫ হাজার রুপি। এত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। তা ছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার পিতাকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়। এ জন্য তিনি তার পিতাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও তাকে অনুমতি দেয়া হয় নি।

তার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছেন, বকেয়া থাকায় ওই রোগিকে প্রাইভেট ওয়ার্ড থেকে জেনারেল ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয় এতেই তার ছেলে ক্ষিপ্ত হন। তাদের মোট বিল হয়েছিল ১৬ লাখ ৭৫ হাজার রুপি। তারা মাত্র ৩ লাখ ৩০ হাজার রুপি পরিশোধ করেছে। বিপুল অংকের বকেয়া থাকা সত্ত্বেও ওই রোগির একটি অপারেশন করা হয় ২১শে এপ্রিল। তবে আদালতে অভিযোগকারী ছেলে দাবি করেছেন, তিনি ২০শে এপ্রিল পুলিশে অভিযোগ দেয়ার পরই ওই অপারেশন করা হয়েছে। এমন কর্মকান্ডের নিন্দা জানিয়েছেন হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারক বিপিন সাঙ্গি ও দীপা শর্মা।

তারা রায়ে বলেছেন, যদি বিল পরিশোধ না-ও হয় তবু রোগিকে ছেড়ে দিতে হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে তারা বলেন, রোগিকে আপনারা এভাবে জিম্মি করতে পারেন না। এমন রীতি আদর্শে পরিণত হতে পারে না। যদি পাওনার অঙ্ক অনেক বেশি হয় তাহলেও সেই অর্থ পরিশোধ করতে রোগিকে জিম্মি করা যাবে না। এমন রীতির চর্চাকে আমরা নিন্দা জানাই। আদালত তার রায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন ওই রোগির ছাড়পত্র প্রস্তুত করতে এবং তার ছেলে যেন পিতাকে নিয়ে যেতে পারে সে অনুমতি দেয়ার জন্য।

ওদিকে দিল্লি সরকারের সিনিয়র স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল রাহুল মেহরা বলেছেন, অনেক হাসপাতালই এই ধরণের আচরণ করে থাকে রোগিদের সঙ্গে।

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*