প্রচ্ছদ / জাতীয় / লিবিয়ায় বাংলাদেশি অপহরণ, শ্বশুর-শাশুড়ি-জামাই গ্রেপ্তার
home-ad-620-x-90

লিবিয়ায় বাংলাদেশি অপহরণ, শ্বশুর-শাশুড়ি-জামাই গ্রেপ্তার

খবর ডেস্ক : লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের (শ্বশুর-শাশুড়ি ও জামাই) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। দুপুর ১২টায় মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোল্লা নজরুল ইসলাম।

তিনি জানান, সিআইডির একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র লিবিয়ায় অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে। এরপর সিআইডির অনুসন্ধানে তারা জানতে পারে মাদারীপুরের শিবচর থানার ব্র্যাক ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক শাখায় তিনটি অ্যাকাউন্টে কয়েক লাখ টাকা লিবিয়াতে অপহরণ হওয়া ব্যক্তিদের জন্য মুক্তিপণ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে।

এর তদন্তে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল ব্র্যাক ব্যাংকে মো. মুজিবুর রহমান জমাদ্দার (৪৫), তাঁর স্ত্রী নুরজাহান (৩৯) ও তাঁর জামাতা হান্নান মিয়ার (৩২) ন্যাশনাল ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আর সেই অ্যাকাউন্টে খোলার পর দিনই সিলেট, ঠাকুরগাঁও, মাদারীপুর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েক লাখ টাকা জমা হয়েছে। ব্যাংক থেকে জানা যায়, তিনজনের অ্যাকাউন্টে অর্ধকোটি টাকা জমা হয়েছে। এসব টাকা বিভিন্ন সময় মুক্তিপণ হিসেবে অপহরণের শিকার ব্যক্তির স্বজনরা জমা করেছেন।
মো. মুজিবুর রহমান জমাদ্দার দীর্ঘদিন লিবিয়ায় থাকাকালীন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে সে দেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের অপহরণ করে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এবং বিকাশের মাধ্যমে আদায় করে আসছিল।

এরপর সিআইডির এসপি এনায়েত করিম ও ইকবাল হোসেনের নেতৃতে একটি দল মাদারীপুরের শিবচর থানার এলাকা থেকে মো. মুজিবুর রহমান জমাদ্দার (৪৫), তাঁর স্ত্রী নুরজাহান (৩৯) ও জামাতা হান্নান মিয়াকে (৩২) গত ২০ এপ্রিল গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাঁদের অ্যাকাউন্টে থাকা অর্ধকোটি টাকা, একটি পাসপোর্ট এবং বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় শিবচর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর এই মামলায় মো. মুজিবুর রহমান জমাদ্দার ও জামাতা হান্নান মিয়াকে তিনদিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে।

মোল্লা নজরুল ইসলাম আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। এর চক্রের অন্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*