প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / দুর্ভাগা মিসবাহ
home-ad-620-x-90

দুর্ভাগা মিসবাহ

খবর ডেস্ক : ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট সিরিজ খেলছেন মিসবাহ উল হক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষের শুরুটা দারুণভাবেই করেছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক। কিন্তু শেষের শুরুটা আরো রঙ্গীন হতে পারতো। তবে রান নেয়ার লোভ সামলাতে না পারায় সেটা আর সম্ভব হলো না। জ্যামাইকার স্যাবিনা পার্কে মাত্র এক রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেন তিনি। সঙ্গীর অভাবে ৯৯ রানে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়তে হয় মিসবাহকে। ক্রিকেট ইতিহাসে সঙ্গীর অভাবে মাত্র এক রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করা ষষ্ঠ খেলোয়াড় হলেন তিনি।
প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৮৬ রানের জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ৪০৭ রানে। জবাবে চতুর্থ দিন নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে ৯৩ রান তোলে। ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে তখন তারা ২৮ রান দূরে। জ্যামাইকায় দ্বিতীয় দিনের প্রায় সবটা বৃষ্টির পেটে চলে যায়। তৃতীয় দিন খেলা হয়। পাকিস্তান ৪ উইকেটে ২০১ রানে দিন শেষ করে। অধিনায়ক মিসবাহ উল হক ৫ ও আসাদ শফিক ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। চতুর্থ দিন ব্যাটে নেমে আসাদ শফিক ফেরেন ২২ রানে। কিন্তু মিসাবহ উল হক নির্ভরতার প্রতীক হয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তান নবম উইকেট হারায় (ইয়াসির শাহ) ৩৭৩ রানের মাথায়। মিসবাহ উল হক তখন ৬৮ রানে অপরাজিত। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে নামেন অভিষিক্ত পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। তাকে সঙ্গে নিয়ে লেজের শক্তি দেখাতে থাকেন মিসবাহ। ইয়াসির ফেরার পর প্রথম ওভারেই দু’টি চার হাঁকান মিসবাহ। তাকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছিলেন আব্বাস। দশম উইকেটে যোগ করে ফেলেন ৩৪ রান। ইনিংসের ১৩৮তম ওভারে দেবেন্দ্র বিশুর শেষ বলে মিসবাহ উল হক ব্যাট চালান। বল চলে যায় লং অফে। রান নেয়ার জন্য দৌঁড়ান তারা। চেষ্টা করলে তিন রান নেয়া যেতো। এমনটা হলে পরের ওভারে স্ট্রাইক পেতেন মিসবাহ। কিন্তু সেটা আর হলো না। ২ রান নেয়ার পর তৃতীয় রানের জন্য দৌঁড় শুরু করেও থামতে হয় তাদের। মিসবাহ’র রান তখন ৯৭ থেকে ৯৯ তে গিয়ে দাঁড়ায়। ওভারের শেষ বলে ২ রান নেয়ায় মিসবাহ তখন স্ট্রাইকে। এতে নতুন ওভারের তাকে চলে যেতে হয় নন-স্ট্রাইকে। ১৩৯তম ওভারে  বল হাতে আসেন রস্টন চেজ। তার প্রথম তিন বল দারুণভাবে মোকাবিলা করেন অভিষিক্ত আব্বাস। এক রান নিতে পারলে কিংবা পরের তিনটা বল পার করে দিতে পারলেই পরের ওভারে সেঞ্চুরির সুযোগ পেতেন মিসবাহ। কিন্তু চতুর্থ বলে ঘটে যায় দুর্ঘটনা। চেজের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে যান আব্বাস। অপরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মিসবাহ’র চোখেমুখে তখন হতাশা। মাথা নিচু করে ফেলেন তিনি। কিন্তু মুহূর্ত পরেই আম্পায়ারের কাছে রিভিউ চান মিসবাহ। কিন্তু আব্বাসকে আউটের হাত থেকে বাঁচাতে পারেননি। ২১ বলে ১ রান করে ফেরেন আব্বাস। আর ২২৩ বলে ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মিসবাহকে।
ক্রিকেট ইতিহাসে এর আগে সঙ্গীর অভাবে এক রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস হয়েছে মাত্র পাঁচ ব্যাটসম্যানের। সর্বপ্রথম ১৯৭৯ সালে এমন দুর্ভাগ্যের শিকার হন ইংল্যান্ডের জিওফ বয়কট। পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন ঘটনার শিকার হন তিনি। এরপর ১৯৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ ওয়াহ, ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স টুডোর ও ২০০২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন ঘটনার শিকার হন শন পোলক। আর মিসবাহ’র আগে সর্বশেষ ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এমন দুর্ভাগ্যের শিকার হন দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যান্ড্রু হল।
এদিন মিসবাহ এমন দুর্ভাগ্যের শিকার হলেও পাকিস্তান রয়েছে জয়ের পথে। ১২১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯৩ রান তুলতে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে। তখনো তারা পিছিয়ে ২৮ রানে। এদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের চারটি উইকেটই তুলে নেন পাকিস্তানের লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়া মোহাম্মদ আমির দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ভয়ঙ্কর বোলিং। ৯ ওভারে ২ মেডেন তুলে নিয়ে তিনি দেন মাত্র ১১ রান। ওভারপ্রতি তার খরচ হয় ১.২২ রান। এদিন তার ৯ ওভারের ৫৪ বলের মধ্যে ৪৫টিই ছিল ডট। তার মাত্র ৯ বল থেকে রান নিতে পারে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা।

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*