প্রচ্ছদ / লীড নিউজ / এসআইয়ের প্রেম প্রত্যাখ্যান, গায়ে আগুন ধরিয়ে নারী পুলিশের আত্মহত্যা
home-ad-620-x-90

এসআইয়ের প্রেম প্রত্যাখ্যান, গায়ে আগুন ধরিয়ে নারী পুলিশের আত্মহত্যা

অনলাইন ডেস্ক : ময়মনসিংহে প্রেমের সম্পর্কে জটিলতা দেখা দেওয়ায় এক নারী পুলিশ কন্সষ্টেবল গায়ে কোরোসিন দিয়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রোববার বেলা তিনটার দিকে গৌরীপুর থানা কমপাউন্ডের ভেতর ব্যারাকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ মুর্মূষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকায় রেফার্ড করেন। সন্ধ্যায় হালিমাকে ঢাকা নেওয়ার পথে ভালুকায় সে মারা যায়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে থানার এসআই মিজানুল ইসলামকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।

এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম নিয়াজীকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রোববার বিকেলে গৌরীপুর থানার এক মহিলা পুলিশ কনস্টেবল (নম্বর ১০৪৭) গায়ে কোরোসিন দিয়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় গৌরীপুর থেকে পুলিশ কনস্টেবল হালিমা খাতুনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১১ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে পুলিশের ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আক্কাস উদ্দিন ভূইয়া, পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান।

এ সময় অগ্নিদগ্ধ হালিমা গৌরীপুর থানার এসআই মিজানের সাথে তার প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়টি পুলিশ সুপার এবং ডিআইজিকে জানান। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক হালিমাকে ঢাকায় বদলির আদেশ দেয়। সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পথে অবস্থার অবনতি হলে ভালুকা উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হালিমা খাতুন নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার গৌরাকান্দা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন আকন্দের মেয়ে। সে ২০১১ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে ভর্তি হয়।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন মোবাইলে জানান, এসআই মিজান ব্যক্তি জীবনে বিবাহিত এবং তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রাণী সরকার জানান, নিহত হালিমার সাথে এবং একই থানার এসআই মিজানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে আমরা এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি। বিষয়টি হালিমা মৃত্যুর আগেও স্বীকার করে গেছে। মূলত প্রেম সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই সে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গৌরীপুর থানার এসআই মিজানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

 

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*