প্রচ্ছদ / লীড নিউজ / ব্যাংক কর্মকর্তা খুন, ৭ দিনেও গ্রেফতার হয়নি ঘাতক স্বামী
home-ad-620-x-90

ব্যাংক কর্মকর্তা খুন, ৭ দিনেও গ্রেফতার হয়নি ঘাতক স্বামী

অনলাইন ডেস্ক  : ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুন্নেছা হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পার হলেও এখনও ঘাতক স্বামী রবিনকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, র‍্যাব ও সিআইডি রবিনকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে বলে জানালেও নিহতের পরিবারের দাবি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিকতার অভাবেই আসামিকে গ্রেফতার হচ্ছে না। আসামি রবিন আরিফাকে হত্যার পর ফেসবুকে তার পরিবারকে নানান হুমকি দিলেও কেন তার অবস্থান সনাক্তে পুলিশ ব্যর্থ তাও বোধগম্য নয় আরিফার পরিবারের।

সরেজমিনে আরিফার ভাই বুলবুলের সাথে কথা হলে তিনি নিরাশ হয়ে  বলেন, ‘শুনেছি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ডিবি, র‍্যাব, সিআইডিও পুলিশকে সহায়তা করছে। সবার সহযোগিতার পরও আসামি কেন গ্রেফতার হচ্ছে না তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশ শুধু আশ্বাসের বানী শুনালেও কাজের ক্ষেত্রে তার কোনো কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা। তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশ্ন রেখে বলেন, উন্নত প্রযুক্তি থাকার পরও বোনকে হত্যার পর আসামি ফেসবুকে আবারো আমাদের পরিবারকে নানান হুমকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ফেসবুক ব্যবহারের পরও তাকে সনাক্ত করতে ব্যর্থ পুলিশ এটা আমাদের বোধগম্য নয়। তবে আমরা চিন্তিত আসলে সঠিক বিচার পাব কিনা?’

যদিও আরিফা নিহতের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও সোর্স ব্যবহার করে রবিনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ সে অভিযোগ করে আসছে আরিফার পরিবার।

মামলা তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে কলাবাগান থানার পরিদর্শক সমীরণ চন্দ্র সূত্র ধর জানান, আসামিকে গ্রেফতারের জন্য সম্ভাব্য সকল স্থানেই আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। আসামি গ্রেফতারে আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই।

নিহত পরিবারের অভিযোগের আন্তরিকতার প্রশ্নে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আন্তরিকতার অভাব নেই বলেই আমরা ডিবি, র‍্যাব ও সিআইডির সহযোগিতা নিয়েছি। তারাও আমাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। আসামি যতই পালিয়ে থাকুক না কেন শীঘ্রই তাকে গ্রেফতার করতে পারব। তবে এখন পর্যন্ত পজিটিভ কোন রেজাল্ট পাওয়া যায়নি।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছির আরাফাত জানান, আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আসামিকে গ্রেফতার করার জন্যে। আশা রাখি আসামি রবিন আর বেশিদিন পালিয়ে থাকতে পারবে না। আমরা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছি এবং তারাও আন্তরিকতার সহিত কাজ করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, আরিফা ও রবিন একজন আরেকজনের পছন্দের কারণে তাদের পরিবারের অমতেই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পরপরই তাদের দুজনের বনিবনা হচ্ছিল না। সে কারণেই গত বছরের আগস্ট মাসে রবিনকে ডিভোর্স দেন আরিফুন্নেছা। গত বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল রোডের ওয়েস্ট স্ট্রিটের ১৩/এ’র বাসার সামনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে আরিফাকে মারাত্মক জখম করে রবিন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*