প্রচ্ছদ / শিক্ষাঙ্গন / রাবিতে ছাত্রলীগের দু’পক্ষে উত্তেজনা, গুলি
home-ad-620-x-90

রাবিতে ছাত্রলীগের দু’পক্ষে উত্তেজনা, গুলি

অনলাইন ডেস্ক :  দলীয়কর্মীকে মারধরের ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ সময় হলের প্রবেশ পথে তালা দিয়ে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ এবং দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে মাদারবক্স হলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য সাকিবুল হাসান বাকি এবং রাবি শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি মীমাংসা না হওয়ায় যেকোনও সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টরা।
মারধরের শিকার আব্দুস সালাম লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সাকিবুল হাসান বাকির অনুসারী। অন্যদিকে মারধরকারী সাদ্দাম হোসাইন রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারী। তিনি অর্থনীতি বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করেছেন।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি কিবরিয়ার অনুসারী সাদ্দাম হোসেন, হল শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানাসহ ১২/১৫ জন নেতাকর্মী রাত ১১টার দিকে মাদারবক্স হলে ‘পলিটিক্যাল ব্লক’করার বিষয়ে অতিথি কক্ষে আলোচনায় বসেন। এ সময় তারা ২১১ নাম্বার কক্ষের বাসিন্দা ছাত্রলীগকর্মী আব্দুস সালামকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। সালামের কাছে রাবি শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর মোবাইল নাম্বার না থাকায় সাদ্দাম একপর্যায়ে সালামকে বেধড়ক মারধর করে। পরে ১১৯ নাম্বার কক্ষের ছাত্রলীগকর্মী সাব্বিরকে হুমকি-ধামকি দেয় সভাপতির অনুসারীরা। সাব্বিরও কেন্দ্রীয় নেতা বাকির অনুসারী।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে হলের প্রবেশ পথে তালা ঝুলিয়ে ৩৫/৪০ জন নেতাকর্মী নিয়ে অবস্থান নেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য সাকিবুল হাসান বাকি। এতে সভাপতি কিবরিয়ার অনুসারীরা হলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে অন্য আবাসিক হলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১২টার দিকে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা বাকি বিষয়টি মানতে নারাজ হন।
একপর্যায়ে বাকি মোবাইলে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের আশ্বাসে শান্ত হয়। কিছুক্ষণ পর তৃতীয় ব্লক থেকে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এ সময় রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাকর্মী হলে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে সভাপতির অনুসারী সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সে (সালাম) যার সঙ্গেই ছাত্রলীগ করুক, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম্বার রাখা উচিত। সেটা তার কাছে নেই, এজন্য বকাঝকা করা হয়েছে, মারধর করা হয়নি।’
জানতে চাইলে রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘হল নেতাদের সঙ্গে বাকির একজন ছোট ভাইয়ের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। জানতে পেরে আমি ও সাধারণ সম্পাদক রুনুসহ অন্যরা গিয়ে বসে বিষয়টি মীমাংসা করি। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে।’
তবে মীমাংসা হয়নি দাবি করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সাকিবুল হাসান বাকি বলেন, শুধুমাত্র আমার সঙ্গে রাজনীতি করায় সালামকে মারধর করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটনের আশ্বাসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শান্ত হয়েছে, বিষয়টি মীমাংসা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*