প্রচ্ছদ / স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা / সাভারে ভূল চিকিৎসা প্রসুতির মৃত্যুর অভিযোগ, ভাংচুর
home-ad-620-x-90

সাভারে ভূল চিকিৎসা প্রসুতির মৃত্যুর অভিযোগ, ভাংচুর

আব্দুস সালাম  :  ঢাকার সাভারে একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভূল চিকিৎসায় প্রসুতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় নিহতের স্বজনেরা ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতালটিতে ভাংচুর চালিয়েছে।

অবস্থা বেগতিক দেখে হাসপাতালটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

সোমবার সন্ধ্যায় সাভার পৗর এলাকার গেন্ডা মহল্লায় অবস্থিত ‘মনামী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার’ এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত গৃহবধুর নয়ন তারা (২০)। রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার নয়নদি গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলামের মেয়ে। সে তার স্বামী আতোয়ার রহমানের সাথে নামা গেন্ডা মহল্লায় মজিদ খানের বাড়িতে ভাড়া থাকতো।

পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকারিয়া হোসেন জানান, সিজার করার সময় প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। তবে নবজাতক (ছেলে) সুস্থ্য রয়েছে। এঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

নিহতের পোশাক শ্রমিক স্বামী আতোয়ার রহমান বলেন, দুপুরে নয়নতারা প্রসবযন্ত্রনা উঠলে পরিবারের লোকজন কাছের মনামী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরে বিকেলে হাসপাতালটির পরিচালক ডা. এম আর জাহাঙ্গীর তার স্ত্রী লিপি আক্তার ও ম্যানেজার সুমন জানায়, আমার পুত্র সন্তান হয়েছে। তবে নয়ন তারা মারা গেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ডাক্টার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভুল চিকিৎসার কারনেই মারা গেছে।
তবে নিহতের মা সাহিদা বেগম বলেন, দুপুরে মনামী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নার্স রঞ্জনা ও মার্কেটিং অফিসার রাশেদা আমাদের বাসায় গিয়ে নয়ন তারাকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

তবে ঘটনার পর সরেজমিনে হাসপাতালটিতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ কাউকে পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. শামসুন্নাহার সনেট জানায়, নয়ন তারার অপারেশনের সময় প্রেসার অনেক কম ছিল এবং বাচ্চার হার্টবিট বেশী ছিল। যে কারনে অপারেশন করা ঝুঁকিপূর্ন ছিল। আমরা বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানানোর পর তাদের বন্ডসই নিয়েই অপারেশন করেছি। এছাড়া অপারেশনের সময় আমি দ্রুত বাচ্চা বের করে দিয়ে চলে আসি। কিন্তু ওই প্রসূতিকে স্পাইনাল দেয়ার পর বিপি ফল করায় তার মৃত্যু হয়েছে।

তাই এবিষয়ে কেন প্রসূতির জ্ঞান ফিরেনি সেটি অজ্ঞান ডা. মিঠু ভালো বলতে পারবেন। তবে এবিষয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. নাজমুল হুদা মিঠুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমজাদ হোসেন বলেন, রোগীর মৃত্যুর খবর শুনে আমরা হাসপাতালটিতে লোক পাঠিয়েছি। এছাড়া আমাদের গাইনী কনসালটেন্ট জয়নব আক্তারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এপ্রসঙ্গে হাসপাতালটির পরিচালক ডা. এম আর জাহাঙ্গীরের মুঠফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*