প্রচ্ছদ / লীড নিউজ / নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার ২৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড
home-ad-620-x-90
নজরুল ইসলামসহ নিহত সাত জন

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার ২৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক  :  নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের মামলায় সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা নূর হোসেন ও সাবেক তিন র‌্যাব কর্মকর্তাসহ ২৬ আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। বাকি নয় আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সোমবার নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা দু’টি মামলাকে একটি হিসেবে গ্রহণ করে রায় দেন তিনি। সংক্ষিপ্ত রায়ে শুধুমাত্র আসামিদের সাজা ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে বলে জানান বিচারক।

ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর জামাতা ও র‌্যাব-১১’র সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মুহাম্মদ, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (অব.) মাসুদ রানা।

রায় ঘোষণার সময় মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ২৩ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন র‍্যাবের সদস্য। মামলার শুরু থেকেই র‍্যাবের সাবেক ৮ সদস্যসহ ১২ আসামি পলাতক।

কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী’র সন্তোষ

সাত খুন মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি।

নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের দেয়া রায়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছি। তবে সাজা দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।’

নিহত নজরুলের শ্বশুর সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, ‘আমি রায়ে খুশি। এখন সাজা দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।’

ন্যায় বিচার হয়েছে

রায় ঘোষণার পর সাত খুন মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছি।‘

তিনি বলেন, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ন্যায়বিচার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে নদী থেকে এই লাশগুলো উদ্ধারের পর আমিসহ তিনজন আইনজীবী উচ্চ আদালতে রিট করি। উচ্চ আদালত এই মামলার মূল আসামিদের অন্যতম র‍্যাবের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করে। তার পথ ধরে এই রায়। তিনি অবিলম্বে এই রায় কার্যকরের আহ্বান জানান।

পেছনে ফিরে দেখা

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ, পরদিন মেলে আরেকটি লাশ। নিহত বাকিরা হলেন- নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম।

ঘটনার এক দিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা (পরে বহিষ্কৃত) নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় ১১ মে একই থানায় আরেকটি মামলা হয়। এই মামলার বাদী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। পরে দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে পুলিশ।

নিহত কাউন্সিলর নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম সে সময় অভিযোগ করেন, র‍্যাবকে ছয় কোটি টাকা দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পরে র‌্যাবের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও আর্থিক লেনদেনের সত্যতা মেলে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নূর হোসেন এবং র‍্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ।

অভিযুক্ত ৩৫ আসামি হলেন- চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানা, হাবিলদার এমদাদুল হক, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দ বালা, করপোরাল রুহুল আমিন, এএসআই বজলুর রহমান, হাবিলদার নাসির উদ্দিন, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, সৈনিক নুরুজ্জামান, কনস্টেবল বাবুল হাসান ও সৈনিক আসাদুজ্জামান নূর।

কারাগারে থাকা বাকি আসামিরা হলেন- সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, তাঁর সহযোগী আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দীপু, রহম আলী, আবুল বাশার ও মোর্তুজা জামান (চার্চিল)।

পলাতক আসামিরা হলেন- করপোরাল মোখলেছুর রহমান, সৈনিক আবদুল আলীম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবীর, এএসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান এবং নূর হোসেনের সহযোগী সেলিম, সানাউল্লাহ ছানা, ম্যানেজার শাহজাহান ও ম্যানেজার জামাল উদ্দিন।

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*