প্রচ্ছদ / গণমাধ্যম / শ্রমিক অসন্তোষ: ইটিভি ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক নাজমুল গ্রেপ্তার
home-ad-620-x-90
সাংবাদিক নাজমুল হুদা (বামে) ও ঝুট ব্যবসায়ী সেলিম আহম্মেদ (ডানে)

শ্রমিক অসন্তোষ: ইটিভি ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক নাজমুল গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার  :  সাভারের আশুলিয়ার তৈরি পোশাকশিল্পে অরাজক পরিস্থিতি তৈরিতে সহায়তা আর শ্রমিকদের উস্কানী দেবার অভিযোগে বেসরকারি টেলিভিশন একুশে টেলিভিশন ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাভার প্রতিনিধি এবং ‘নিউজ টোয়েন্টিফোর’ চ্যানের সাংবাদিক পরিচয়দানকারী নাজমুল হুদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে নেয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে। জব্দ করা হয় তার মুঠোফোন, ল্যাপটপ ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়িটি।

আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহসিনুল কাদির জানান, শুক্রবার রাতেই আশুলিয়া থানার এসআই শাহাদাৎ হোসেন বাদী হয়ে নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে টেলিভিশন ও পত্রিকায় উস্কানীমুলক সংবাদ পরিবেশন ও ফেসবুকে একাধিক আইডির মাধ্যমে তা প্রচারের অভিযোগ আনা হয়।

তবে গ্রেপ্তারকৃত নাজমুলের ছোট ভাই কামরুজ্জামান বলেন, আমারভাই নাজমুলকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। সবাই যে ভাবে সংবাদ করে সেও সেইভাবেই করেছে।

এদিকে পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে জানাগেছে, হেমায়েতপুরের একাধিক নাশকতা মামলার আসামী আমান সরকার ও ব্যাংক টাউন এলাকার বাসিন্দা ঝুট ও জমি ব্যবসায়ী সেলিম আহম্মেদ চলতি মাসের ১৩ ডিসেম্বর নাজমুল হুদাকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যায়। ফিরে আসেন ১৮ ডিসেম্বব।

সেখান থেকে ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশ তৃণমূল গার্মেন্টর্স শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের নেতা শামীম খান ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে বহুবার টেলিফোনে কথা বলেছে। তবে কি বিষয়ে এত কথা হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ।

গোয়েন্দা সূত্রে জানাগেছে, ২০১৩ সালে জামগড়া এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানার সামনে রাস্তা পারাপারের সময় গাড়ি চাপায় আহত হন এক নারী পোশাক শ্রমিক। তখন নাজমুল হুদা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই নারী পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে মিথ্যে তথ্য পরিবেশন করলে গোটা শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়াও রানা প্লাজা ধ্বসের পর বিভিন্ন পোশাক কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ নিয়ে তখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশ হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিল্প মালিকদের তা প্রচারের ভয়-ভীতি দেখিয়ে নাজমুল হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। পাশাপাশি বিদেশি কিছু এনজিও ও গণমাধ্যমে গাইড হিসেবে দেশের গার্মেন্টস সেক্টরের স্পর্শকাতর ও নাজুক তথ্য তুলে দেয় তাদের হাতে।

নাজমুলের প্রধান সহযোগী ব্যাংক টাউন এলাকার ঝুট ও জমি ব্যবসায়ী সেলিম। বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়ি সেলিমের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের রাজ্জাক প্লাজা নামের বহুতল বিপনীবিতানে মালিক অলি আহম্মেদ খানের কাছে ৫লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছিল নাজমুল। তখন টাকা না দেয়ায় একুশে টিভিতে ‘ঝুকিপূর্ন ভবন’ মিথ্যা রিপোর্ট করলে প্রশাসন ভবনটি নিরাপত্তার কারণে বন্ধ করে দেন।

পরে বুয়েটের পরীক্ষায় ঝুঁকিমুক্ত প্রমাণিত হলে ব্যবসায়ীরা তাকে গণপিটুনি দেন। সে যাত্রায় ট্রাফিক পুলিশের চেষ্টায় রক্ষা পায় নাজমুল। এঘটনা নিয়ে দৈনিক ইনকিলাবসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল।

এরআগে রাজধানীর কাফরুল থানায় এক ব্যবসায়ীর চুরি হওয়া ভক্সি গাড়ি নাজমুলের গেন্ডা এলাকার বাড়ি থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। সেই মামলার চার্জশিটভূক্ত আসামি ছিল নাজমুল।

এছাড়াও সাভারের গেন্ডা এলাকার পুলিশের এসআই আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী’র করা শ্লীলতাহানীর মামলাসহ একাধিক মামলা ও জিডি রয়েছে নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে।

এদিকে সরকারী ছুটির পরদির শনিবারও অন্যান্য কারখানাগুলো খুলা থাকলেও বন্ধ ৫৫টি কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সড়কে টহল দিচ্ছে র‌্যাব, আমর্ড পুলিশ।

তাছাড়া শিল্প এলাকায় যে কোন ধরনের অরাজকতা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সকাল থেকেই শিল্প এলাকায় বিরাজ করছে শান্তিপূর্ন পরিবেশ। তবে এখন পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে সাভার প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মিঠুন সরকার জানান, এঘটনার পর প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিক নাজমুলের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*