প্রচ্ছদ / লীড নিউজ / মন্ত্রীদের আশ্বাসের পরও আশুলিয়ায় কাজ বন্ধ ৩০ কারখানায়
home-ad-620-x-90

মন্ত্রীদের আশ্বাসের পরও আশুলিয়ায় কাজ বন্ধ ৩০ কারখানায়

স্টাফ রিপোর্টার  :  শ্রমিকনেতারা মন্ত্রীদের আশ্বাসের কথা শোনালেও তাতে সাড়া না দিয়ে ন্যূনতম বেতন ১৬ হাজার টাকার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো কাজ বন্ধ রেখেছেন সাভারের আশুলিয়া এলাকার অন্তত ৩০ কারখানার শ্রমিকরা।

গামের্ন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলছেন, মন্ত্রীদের আশ্বাসের কথা শ্রমিকদের জানানো হয়েছে, কিন্তু তা তারা আমলে নিচ্ছেন না।

শ্রমিকনেতাদের নিষ্ক্রিয়তার মুখে আন্দোলন সংগঠিত হতে পারছে না, কিন্তু বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা নিজেরা সংগঠিত হয়ে কাজ বন্ধ রাখার পাশাপাশি বিক্ষোভ দেখিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে যাচ্ছেন বলে শ্রমিকনেতা মিন্টুর ভাষ্য।

মন্ত্রীদের আশ্বাস সম্পর্কে মিন্টু বলেন, আশুলিয়া এলাকায় আগামী তিন বছরের মধ্যে কোনো বাসা ভাড়া বৃদ্ধি করা হবে না বলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আশ্বাস দিয়েছেন।

“এছাড়া বেতন বৃদ্ধির জন্য মজুরি বোর্ডের কাছে রিভিউ আবেদন করতে বলা হয়েছে মন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে।”

নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বাসায় সোমবার রাতের এই বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ৪২টি শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানান শ্রমিকনেতা মিন্টু।

মিন্টু বলেন, “শ্রমিকদের এসব বিষয় অবহিত করা হলেও তারা আমাদের কথা মানছেন না। তাদের দাবিতে তারা অনড়।”

শ্রমিকরা মাসিক মজুরি ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বলে তিনি জানান, যেখানে বর্তমান সর্বনিম্ন মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা।

আশুলিয়া থানার ওসি মহসিনুল কাদির বলেন, মঙ্গলবার সকালে অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কারখানায় এলেও কাজ না করে বিক্ষোভ দেখাতে দেখাতে বেরিয়ে চলে গেছেন।

সোমবারও অন্তত ২৫টি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে দেখাতে চলে যান।

গত আট দিন ধরে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের জামগড়া, বেরন, বাইপাইল, নরসিংহপুরসহ আশপাশের কারখানায় এ অসন্তোষ চলে আসছে।

গামের্ন্টস অ্যান্ড শিল্পশ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, মন্ত্রীরা শ্রমিকদের শান্ত হয়ে কাজে যোগদানের আহ্বান জানালেও তারা তা শুনছেন না।

“শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির তাৎক্ষণিক ঘোষণা দাবি করছেন।”

শ্রমিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে: কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুপুরে খাবার ও যাতায়াত ভাতা বৃদ্ধি, ছুটির দিনের কাজের আভার টাইম বিল দ্বিগুণ করা, যখন-তখন শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা, কর্মক্ষেত্রে মৃত্যু হলে চাকরির বয়স পর্যন্ত আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ, তাজরিনসহ সব কারখানায় দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা, শিল্পাঞ্চলে সরকারি স্কুল-কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া ইত্যাদি।

এদিকে সোমবারের মতো মঙ্গলবার সকালেও আশুলিয়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ দেখা গেছে।

শিল্প পুলিশের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে থানা পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও আমর্ড পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*