প্রচ্ছদ / আর্ন্তজাতিক / মোদির নোট বন্ধের সিদ্ধান্তকে ‘স্বৈরাচারী’ বললেন অমর্ত্য সেন
home-ad-620-x-90

মোদির নোট বন্ধের সিদ্ধান্তকে ‘স্বৈরাচারী’ বললেন অমর্ত্য সেন

অনলাইন ডেস্ক: ভারতে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বন্ধের সিদ্ধান্তকে ‘উৎপীড়ণ ও স্বৈরাচারী’ বলে উল্লেখ করেছেন নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমর্ত্য সেন। বুধবার ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেয়া ঐ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কালো টাকা সাদা করার এই উদ্দেশ্যকে সব ভারতীয়রা হয়তো প্রশংসা করবে। তবে আমরা জিজ্ঞাসা করতে পারি, এই কাজটি করার জন্য এই সিদ্ধান্তটা ভালো উপায় হলো কি না? এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অর্জন হচ্ছে কম এবং দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সর্বোচ্চ।’

গত ৮ নভেম্বর আচমকাই ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বন্ধের ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার ঘোষণার সঙ্গেই ভারতে প্রচলিত ৮৬ শতাংশ নগদ টাকায় প্রভাব পড়ে। ৫০ দিনের মধ্যে নগদ টাকার সংকট নিরসনের কথা বলেছেন মোদি। দেশে দুর্নীতি ও করফাঁকি বন্ধে সাধারণ জনগণকে এই কষ্ট মেনে নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

জনগণের হাতে প্রচুর পরিমাণে কালো টাকা রয়েছে- এমন ধারণা থেকেই নোট বন্ধের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোদি।

অমর্ত্য সেন এই বিষয়ে বলেন, ‘ভারতে প্রায় ৬ শতাংশ এবং নির্দিষ্ট করে বললে ১০ শতাংশের কম পরিমাণ কালো টাকা রয়েছে। নোট বন্ধের কারণে অর্জন খুবই কম হবে কিন্তু ভারতের অর্থনীতিতে তা বিশাল প্রভাব ফেলবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, তার উদ্দেশ্য ভালো ছিল কিন্তু সংস্কার প্রক্রিয়াতে ভুল ছিল।

‘আমরা সবাই চাই কালো টাকা বন্ধ হোক। তবে অবশ্যই তা বুদ্ধিমত্তা এবং মানবিকতার সঙ্গে হতে হবে। এ ক্ষেত্রে তা ঘটেনি।’

নতুন দুই হাজার রুপি নোটের সরবরাহ পর্যাপ্ত নেই। ব্যাংকগুলোতে সকালেই নতুন নোট ফুরিয়ে যায়। ব্যাংকের এটিএম বুথগুলোতে এখনো নতুন নোট সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে।

মোদির এই সিদ্ধান্তকে ‘স্বৈরাচারী’ বলার কারণ ব্যাখ্যা করে অমর্ত্য সেন বলেন, ‘স্বৈরাচারী এই অর্থে যে, টাকার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। যদি হঠাৎ করেই কোনো সরকার বলে, আমরা তোমাকে টাকা দেব না। এটিই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত। আমি পুঁজিবাদের ভক্ত নই। তবে বিশ্বাস বা আস্থা হচ্ছে পুঁজিবাদের মূল বিষয়। নোট বন্ধের এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আস্থার বিপক্ষে গেছে। এটি অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য বিপদ। আর বিশ্বাসই হচ্ছে পুঁজিবাদের মূল ভিত্তি। আগামীকাল সরকার ব্যাংক হিসাবধারীদের সঙ্গে একই কাজ করতে পারে। লোকজন নির্দিষ্ট টাকার বেশি উঠাতে পারবে না যতক্ষণ না প্রমাণ করতে পারে তারা কালোটাকার মালিক নন।’

 

 

web-ad

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, এই চিহিৃত ঘরটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে *

*